কোথায় তুমি ! – Valobashar Golpo

কোথায় তুমি valobashar golpo

কোথায় তুমি নামের এই Valobashar Golpo টি হচ্ছে একটি সত্যিকারের ঘটনা যা ঘটেছিলো এক জোড়া ভালোবাসার মানুষের সাথে যারা ছিলো একে অপরের প্রান। চলুন তাহলে শুরু করি আজকের Real Bangla Love Story যা ভালোবাসার মানুষদের ভালো লাগবে।

কোথায় তুমি ! – Valobashar Golpo

কোথায় তুমি valobashar golpo
কোথায় তুমি valobashar golpo

আজকের রাহিমের বাসায় অনেক কাজ। ওর বোনের শশুর বাড়ির লোকেরা আজকের ওদের বসায় আসবে ঈদের দাওয়াতে। রাহিম সাধারণ রাতে অনেক দেরি কড়ে ঘুমায়। মাঝে মাঝে এতো দেরি করে ঘুমায় যে ফজরের আজান দিয়ে দেয়, তারপর নামাজ পরে ঘুমিয়ে পরে। তাই সকালে দেরি কড়ে ওঠে।

গতকাল রাতে প্রায় ৩ টা বাজে ঘুমিয়েছিলো রাহিম। আজকে যেহেতু রাহিমের বোনের শশুর বাড়ির লোকেরা আসবে তাই রাহিমের আম্মু ওকে সকাল প্রায় ৬ঃ৩০ এর দিকে ঘুম থেকে উঠিয়ে দেয়।

ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে রাহিম কোনো রকম ঘুম থেকে উঠে গিয়ে সোফায় বসে আবার ঘুমিয়ে পরে। একটু পরে ওর আম্মু আবার ওকে উঠিয়ে দেয়। মেহমান আসছে, তাই সোফার নতুন কভার লাগাবে, তাই।

রাহিম ঘুম ঘুম ভাব নিয়েই জেরিন কে শুভ সকাল বলে ফেসবুকে মেসেজ দিয়ে। জেরিন এখনো ঘুম থেকে উঠেনি। কারন ঘুম থেকে উঠলে জেরিন রাহিমকে ফেসবুকে মেসেজ দেয়।

রাহিম ঘরে টুকি টাকি কাজ করছে, বাসার সামনের বাজার থেকে এটা সেটা এনে দিচ্ছে মাঝে মধ্যে। জেরিন জানে যে আজকে রাহিম ব্যস্ত থাকবে। রাহিম আগেই বলেছিলো জেরিনকে যে ওদের বাসায় আজকে মেহমান আসবে।

রাহিম আর জেরিনের সম্পর্কটা অন্য রকম। ওদের ভালোবাসা টাও অন্য রকম। ওরা একে অপরের সাথে দেখা করেনি কখনো। অথচ ওদের ভালোবাসার সম্পর্কের বয়স প্রায় ৪ বছরের উপরে। ওরা মোবাইলে কথা বলে আর মেসেজ পাঠিয়ে একে অন্যের খোঁজ খবর নেয়। দূরে থেকেও ওরা যেনো একে অপরের অনেক কাছেই থাকে সব সময় ভালোবাসার টানে।

রাহিম আর জেরিনের সম্পর্কের কথা ওদের বাসায় জানে। রাহিমের বোনের বিয়ে হয়ে গেছে, হয়তো কিছুদিন পরেই রাহিমের ও বিয়ে হয়ে যাবে জেরিনের সাথে। আর রাহিম আর জেরিন ঠিক করেছে যে ওরা বিয়ের আগে কখনো দেখা করবে না।

যা হোক, এতো মিষ্টি প্রেমের সম্পর্ক হয়তো দুনিয়ার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে খুঁজলেও পাওয়া যাবে না খুব একটা।

রাহিমদের বাসায় অতিথিরা এসে পরেছে। অতিথিদের আপ্যায়নের কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে রাহিম। কাজের ফাকে ফাকে মোবাইলে জেরিনকে মেসেজ ও পাঠাচ্ছে। ফেসবুকে যাবার সময়ই পাচ্ছে না রাহিম।

প্রায় দুপুর হয়ে এলো। রাহিম একটু সময় পেয়েছে ফেসবুকে যাবার। ফেসবুকের মেসেঞ্জারে গিয়ে দেখে জেরিনের মেসেজ, “শুব সকাল বাবু, এতো সকালেই উঠে গেছো আজকে! এই আমি student পড়াতে যাচ্ছি।”

এখন বাজে প্রায় ১ টা। জেরিন ফেসবুকে মেসেজ দিয়েছিলো প্রায় ১১ টায় দিকে। এতোক্ষনে তো বাসায় এসে পরার কথা জেরিনের। এখনো তো বাসায় এসে call দেয়নি জেরিন! এই সব ভাবতে ভাবতে রাহিম খেয়াল করলো সকালে থেকে জেরিনকে মোবাইলে যেই মেসেজ গুলো দিয়েছিলো সেগুলো send হয়নি!

রাহিমের অনেক চিন্তা হচ্ছে। জেরিনকে call দিলো রাহিম। একি! জেরিনের মোবাইল বন্ধ কেনো! কোথায় ও! মোবাইল কেনো বন্ধ রেখেছে! মোবাইল বন্ধ বলেই তো সকাল থেকে রাহিম জেরনকে মোবাইলে যেই মেসেজ গুলো পাঠিয়েছিলো সেগুলো send হয়নি।

রাহিমের অনেক চিন্তা হচ্ছে। রাহিম নিজেকে দোষ দিতে থাকে। আজকে যদি সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারতো, টাকা রোজগার করতে পারতো, তাহলে হয়তো আজকে জেরনকে বাসার বাইরে পরাতে যেতে হতো না। কারন জেরিন নিজের পড়ার খরচ নিজে চালায়।

রাহিম বার বার জেরনকে call করেই যাচ্ছে। কিন্তু মোবাইল বন্ধ বলছে প্রতিবার। মনে মধ্যে অনেক রকম চিন্তা আসছে রাহিমের। কি হলো ওর! মোবাইল কেনো বন্ধ! কোনো বিপদ হলো না তো! ওর বাসায় কি call দিবো! না থাক, ওর বাসায় call দিলে ওর বাসায় সবাই কি ভাববে। এখনো তো বিয়ে হয়নি। আর জেরিনের বাবা আর ভাই জানে না সম্পর্কের কথা। শুধু জেরিনের আম্মু জানে।

রাহিমের কিছুই ভালো লাগছে না। দুপুরে খায়নি। সবার থেকে একটু আড়ালে থেকে মনে মনে কান্না করে যাচ্ছে জেরিনের কথা ভেবে, মনে মনে বার বার জেরিন কে ডেকে যাচ্ছে কোথায় তুমি জেরিন? কোথায় তুমি ? প্রায় ২ঃ১৫ বাজে। ফেসবুকে একটা মেসেজ এসেছে জেরিনের, রাহিম তাড়াহুড়ো করে মেসেজ টা খুললো। জেরিন মেসেজ দিয়েছে,

জেরিনঃ বাবু আমি বাসায়।

রাহিমঃ হুম।

জেরিনঃ রাগ করছো বাবু? আমি জানি অনেক রাগ করছো। আজকে ভুলে মোবাইল রেখে গেসিলাম বাসায়। বাসায় এসে দেখি মোবাইল বন্ধ। আম্মু কে জিজ্ঞেস করলাম, বললো মোবাইল টা নাকি হাত থেকে পরে গেসিলো, তারপর আর চালু হয় নাই। মনেহয় নষ্ট হয়ে গেছে।

রাহিমঃ কখন আসছো বাসায়?

জেরিনঃ এই তো, এখনই আসছি, বোরকা খুলেই তোমার কাছে  চলে আসছি।

রাহিমঃ ভালো।

জেরিনঃ ওরে বাবা রে! আজকে তো আমার বাবু টা অনেক রাগ করছে! sorry বাবু, ঈদ গেলো কয়েক দিন আগে, রাস্তায় রিক্সাই পাওয়া যায় না। তাই বাসায় আসতে একটু দেরি হইছে।

রাহিমঃ আচ্ছা।

জেরিনঃ কি আচ্ছা? এই খাইছো দুপুরে?

রাহিমঃ না।

জেরিনঃ কি বল্লা! খাও নাই এখনো! যাও এখনই যাও, খাইয়া আসো। সাহস কতো বড় আমার বাবুটারে না খাওয়াইয়া রাখছে! যাওওওও, খাইয়া আসো।

রাহিমঃ আমার কি tension লাগে না?

জেরিনঃ sorry তো, চলো না খাবো, ক্ষুদা লাগছে।

রাহিমঃ চলো, আমার ও অনেক ক্ষুদা লাগছে, অনেক মজার মজার খাবার আজকে।

 

এভাবেই চলতে থাকে ফেসবুকে রাহিম আর জেরিনের ভালোবাসার গল্প। দূরে থেকে ও ওরা অনেক কাছে। ওদের ভালোবাসাটা আসলেই অন্য রকম।

কোথায় তুমি bhalobashar golpo টা ছিলো সত্যিকারের ভালোবাসার গল্প যা একটি সত্যিকারের ঘটনা থেকে নেয়া। এই bangla valobashar golpo টি ছিলো এমন দুজন মানুষের ভালোবাসার গল্প যারা এই যুগের ছেলে মেয়ে হয়েও সেই আগের দিনের মতো চালিয়ে যাচ্ছিলো তাদের ভালোবাসা টা। এটা কিছুটা bangla sad valobashar golpo হলে ও আসলে অনেক ভালো সময় ও আছে যা সবাইকে বুঝিয়ে দিবে যে ভালোবাসা কাকে বলে আর কিভাবে ভালোবাসতে হয় ভালোবাসার মানুষকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *