বেকার ছেলের ঈদ – Bangla Koster Golpo

বেকার ছেলের ঈদ

একটি বেকার ছেলের ঈদ নিয়ে আমাদের এই গল্পে আপনারা জানতে পারবেন আসলে কেমন কাটে তাদের ঈদ গুলো যাদের হাতে কোনো টাকা পয়সা থাকে না। যারা সব কিছুর জন্য নির্ভর করে নিজের পরিবারের উপর। চলুন তাহলে আজকের বেকার ছেলের ঈদ নিয়ে কষ্টের গল্প শুরু করি।

বেকার ছেলের ঈদ

বেকার ছেলের ঈদ
বেকার ছেলের ঈদ

ঈদের আর মাত্র ৫ দিন বাকি। ফাহিমের ঈদের নতুন জামা এখনো কেনা হয়নি। ফাহিমের বয়স ২৩ বছর এর মতো। লেখাপড়া তেমন একটা করে না, ভালো রেজাল্ট ও করে না কখনো।

ফাহিম একটা বেসরকারি ভার্সিটিতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশুনা করছে। তবে লেখাপড়ার করার চেয়ে ফাহিমের বেশি উৎসাহ শেখার প্রতি।

মানে ফহিম শিখতে চায়। হোক সেটা যে কোনো কিছু, তবে শিখতে চায়।

ও সব সময় ভাবে যে সে যদি পরীক্ষায় ফলাফল ভালো না করে তাহলে সেটা শিক্ষকদের আর স্কুল/কলেজ/ভার্সিটির দোষ। কারন ওর ধারণা কোনো কিছু ভালো ভাবে না শিখিয়েই স্কুল/কলেজ/ভার্সিটি গুলো সব সময় রেজাল্ট নিয়ে পরে থাকে।

ফাহিম মনে করে কেউকে যদি সঠিক ভাবে কোনো কিছু শেখানো যায় তাহলে সে অবশ্যই সেটা পারবে। মানুষ মুখে মুখে ই শুধু বলে শেখার কোনো বয়স নেই, মরার আগে পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহন করা যায়।

কিন্তু একজন ৩০ বছর বয়সের লোক যে লেখাপড়া জানে না, সে যদি শিক্ষা গ্রহন করার জন্য স্কুলে যায় তাহলে কি তাকে সেই স্কুলে ভর্তি নিবে? নিবে না।

তাহলে সবাই যে বলে শিক্ষার কোনো বয়স নেই! এই কথা টা তো কাজে পরিনত করা যায়নি এখনো! এই সব চিন্তা সব সময় ফাহিমের চিন্তা জগতে আঠার মতো লেগে আছে।

যাই হোক, ঈদের তো ৫ দিন বাকি ছিলো, এখন ঈদের বাকি মাত্র ১ দিন। ফাহিম ওর পুরানো পাঞ্জাবি টা খুঁজছে। ঈদে তো ওকে এবার কিছু কিনে দেয়া হয়নি। কারন কিছুদিন আগেই ওর বোনের বিয়ে হয়েছে।

ওর বোনের জামাই অনেক বড়লোকের ছেলে। আর নতুন জামাই হিসেবে তো শশুর বাড়ি থেকে ঈদের জামা কাপড় দেয়া হয় মেয়ের জামাইকে। এবার ফাহিমের বোনের জামাইকে ওর বাবা মা ১০ হাজার টাকা দিয়েছে ঈদে নতুন জামা কেনার জন্য।

তাই ফাহিমের বাবা মার হাতে এখন টাকা তেমন একটা নেই, আবার আসছে ঈদে খরচ করার জন্য কিছু টাকা তো হাতে রাখা কাগবে। তাই ফাহিমকে ওর বাবা মা বলেছে যে এবার জামাই এর পেছনে অনেক খচর হয়ে গেছে, পুরানো জামা দিয়েই কোনো রকম ঈদ কাটাতে, ঈদের পরে টাকা হাতে পেলেই ফাহিমকে নতুন জামা কাপড় কিনে দিবে।

ফাহিম হাসি মুখে মেনে নিয়েছে। একবার ও বলেনি যে তার পুরানো পাঞ্জাবী টা ছিড়ে গেছে। বলে ও লাভ হবে না, ওর বাবা মার কাছে তো ওর পেছনে খরচ করার জন্য টাকা নেই, তাই।

আজ ঈদের দিন। ফাহিম সকালে ঘুম থেকে উঠে পাঞ্জাবীর ছেড়া জায়গাটা একটু সেলাই করে নিলো নিজেই। সামান্য একটু ছেড়া, সেলাই করার পরে বোঝা যাচ্ছে না যে আগে ছেড়া ছিলো।

তারপর পুরানো পাঞ্জাবীটা পরেই ঈদের নামাজ শেষে বাসায় আসছিলো ফাহিম। এমন সময় ওর সাথে ওর এক ফুফাতো ভাইয়ের দেখা। ভাইয়ের সাথে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করলো ফাহিম।

ওর ভাই খেয়াল করেছে যে ফাহিম পুরানো একটা পাঞ্জাবী পড়েছে।

ফাহিমের ফুফাতো ভাইঃ কিরে তুই পুরান পাঞ্জাবী পরছস কেন!

ফাহিমঃ ভাই আর বইলেন না, সকাল থেলে বৃষ্টি। রাস্তায় এতো কাঁদা, নতুন পাঞ্জাবী টা পরে বের হলে নষ্ট হয়ে যেতো।

ফাহিমের ফুফাতো ভাইঃ হ, ঠিকই কইছস, আমার পাঞ্জাবী টা ও একটু লাগছে কাঁদা। ঈদের দিন বৃষ্টি হইলে কি ভালো লাগে! যাই হোক, বাসায় যাইছ।

ফাহিমঃ আচ্ছা ভাই, আপনে যাইয়েন বাসায়।

তারপর ফাহিম বাসায় চলে এলো। এসে দেখে ওর বোনের জামাই আর ওর বোন এসেছে বাসায়। বোনের জামাইয়ের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করার পরে একসাথে খাওয়া দাওয়া করলো।

ফাহিমের বোনের জামাই কে ওর মা ১ হাজার টাকা ঈদের সালামি দিলেন। নতুন জামাই নিতে চায়নি, তবে জোর করে পকেটে ঢুকিয়ে দেলো ওর মা।

ফাহিমের বোন আর ওর জামাই ঘুরতে যাবে, ফাহিমকে অনেক বার বলেছিলো ওদের সাথে যেতে কিন্তু ফাহিম বাহানা দিলো যে সে খেলা দেখবে। আজকে আর্জেন্টিনার খেলা আছে।

ফাহিম একা বসে আছে সোফায়। এখন আবার ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৮ চলছে। ও বসে বসে খেলা দেখছে টিভিতে।

ফাহিমের মা ওর সামনে এসে বসলো।

ফাহিমের মাঃ বাবা রাগ করছস তুই?

ফাহিমঃ না তো! রাগ করবো কেনো!

ফাহিমের মাঃ না মানে, এবার ঈদের তো তোকে কিছু দিতে পারলাম না। নতুন জামা কিনে দেইনি বলে কি ঘরে বসে আছিস, বাইরে বের হচ্ছিস না?

ফাহিমঃ মা তুমি কি যে বলো না! আজকে তো খেলা আছে আর্জেন্টিনার, আমি খেলা দেখবো তাই যাইনি বাইরে।

ফাহিমের মাঃ আমি সব বুঝি। কি করবো বল, তোর বোনটার নতুন বিয়ে হয়েছে। জামাই টা কে তো কিছু দিতে হয় ঈদে, নতুন জামা, সালামি। সবাই দেয় এটা নতুন জামাইকে। আমরা না দিলে খারাপ দেখায়। তাই খরচটা ঐ দিকে বেশি হয়ে যাওয়াতে……. ( ফাহিম থামিয়ে দিলো ওর মা কে )

ফাহিমঃ না মা, আমি খুশি আছি। আর আমি তো বুঝি তোমাদের এবার টাকা একটু খরচ বেশি হইছে। আমার কিছু লাগবে না, দোয়া করো যেনো আমি অনেক টাকা রোজগার করতে পারি। তাহলে আর কোনো দিন পুরান পাঞ্জাবী পরে ঈদের নামাজ পড়তে যেতে হবে না।

ফাহিমের মা এরপরে আর কিছু বলেনি। হয়তো বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলো বা কি বলবে খুঁজে পাচ্ছিলো না তাই কিছু বলেনি।

এরপর ফাহিম সারা দিন এটা সেটা ভেবে আর খেলা দেখে ঈদের দিন কাটিয়েছিলো। আর এভাবেই কেটেছিলো বেকার ছেলে ফাহিমের জীবনের আরো একটা ঈদের দিন।

 

ফাহিমের বয়স এখন ৩২ বছর। ও বিয়ে করেছে। একটা ছেলে হয়েছে ওর। আজকে আরো একটা ঈদের দিন। ফাহিমের ঘরে ৬ টা নতুন পাঞ্জাবী পরে আছে। পড়া হয়নি এখনো সেই পাঞ্জাবীগুলো।

ফাহিমের বউ ওকে নতুন পাঞ্জাবীগুলোর থেকে একটা পাঞ্জাবী পছন্দ করে পরতে বললো। নতুন পাঞ্জাবী টা হাতে নিয়েই ফাহিমের মনের পরে গেলো অনেক বছর আগে পুরানো পাঞ্জাবী পরে কাটানো ঈদের কথা।

আজকের ফাহিম আর বেকার না। অনেক বড় গরুর খামার আছে ফাহিমের। ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গরুর খামার করার কারনে অনেক মানুষ অনেক কথা বলেছিলো। কিন্তু ফাহিম কারো কথায় কান না দিয়ে নিজের ইচ্ছা মতো কঠিন পরিশ্রম করে গেছে গরুর খামারের পেছনে।

আর ফাহিম যেহেতু ইঞ্জিনিয়ার, তাই সে নিজে বুদ্ধি করে অন্য ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে নিয়ে গরুর খামার পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন রকমের যন্ত্রপাতি বানিয়েছিলো যেগুলো ফাহিমের গুরুর খামারের শ্রমিক খচর কমিয়েছিলো কয়েক গুন।

আর শিক্ষিত ছেলে হবার কারনে খামারে কোনো সমস্যা হলে সেটা সমাধান করতে খুব একটা সময় লাগতো না ফাহিমের। আর একজন শিক্ষিত ছেলে গরুর খামার করলে যে সেটার সাফল্য আকাশ ছোঁয়া হয় সেটা দেখিয়ে দিয়েছে ফাহিম।

 

আজকে বেকার ছেলের ঈদ উদযাপন নিয়ে যে bangla golpo আপনারা পড়লেন সেই গল্পটা হচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবারের বেকার ছেলেদের গল্প। আর গরিব পরিবারের ছেলেরা কখনো বেকার থাকে না, কারন ছোট বেলা থেকেই গরিব পরিবারের ছেলেরা লেখাপড়া না করে কাজে যোগ দেয়।

আর বড়লোকের ছেলেদের কখনো কোনো কিছুর অভাব হয়না। তাই বেকার ছেলের ঈদ নামের এই bengali golpo তে বোঝানো হয়েছে শুধু মাত্র মধ্যবিত্ত পরিবারের বেকার ছেলের অবস্থা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *