শবে কদরের নামাজ

শবে কদরের নামাজ

শবে কদরের নামাজ নিয়ে অনেকে মনে অনেক প্রশ্ন থাকে। কিভাবে পড়ে শবে কদরের নামাজ? আসলে পবিত্র শবে কদরে কোনো বিশেষ নামাজ নেই। যেমন রমজান মাসে তারাবিহ নামাজ টা বিশেষ নামাজ, এই নামাজ শুধু রমজান মাসেই পড়া যায়। তেমন কোনো বিশেষ নামাজ নেই শবে কদরের জন্য। চলুন বিস্তারিত জেনে নেই।

শবে কদরের নামাজ

শবে কদরের নামাজ
শবে কদরের নামাজ

আগেই বলে নেই শবে কদর কত তারিখে ২০১৮ সালে। আমরা সাধারণত শুধু ২৭ রমজান এর আগের রাতে পালন করি শবে কদর। মানে রমজানের ২৭ তম রাতেই আমরা পালন করি শবে কদর।

কিন্তু শবে কদর যে আসলে কবে সেটা আল্লাহই ভালো জানেন। কারন আল্লাহ শবে কদর এর সন্ধান করতে বলেছেন রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের বিজোড় রাত গুলোতে। এর মানে হচ্ছে ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ তম রাতে শবে কদর।

তবে আমাদের বাংলাদেশে যেহেতু শুধু ২৭ রমজান রাতে শবে কদর পালন করা হয় সেই হিসেবে ২০১৮ সালের ১২ জুন মঙ্গলবার রাতে হচ্ছে শবে কদর।

তবে আমাদের সবার উচিত আল্লাহর যেভাবে বলেছেন শবে কদর পালন করতে সেই ভাবে পালন করা। মানে বাংলাদেশে ২০১৮ সালের ৬ জুন বুধবার রাতে, ২০১৮ সালের ৮ জুন শুক্রবার রাতে, ২০১৮ সালের ১০ জুন রবিবার রাতে, ২০১৮ সালের ১২ জুন মঙ্গলবার রাতে, ২০১৮ সালের ১৪ জুন বৃহস্পতিবার রাতে, এই রাত গুলোতে পবিত্র শবে কদর পালন করা সকল মুসলমানের কর্তব্য।

এবার কদরের নামাজের কথায় আসি। শুধু মাত্র কোরআন শরীফ নাযিল করা হয়েছে বলে এতো গুরুত্বপূর্ণ শবে কদরের রাত। আর এই রাতে ইবাদত যা করবেন তার সাওয়াব পাবেন হাজার মাস ইবাদত করলে।

মানে আপনি তো শুধু শবে কদরের রাতে, মানে একটি রাতে ইবাদত করলেন। কিন্তু আপনাকে আল্লাহ সাওয়াব দিবে এতো বেশি যে, এই একটি রাতে আপনি যা ইবাদত করলেন, সেই ইবাদত যদি আপনি হাজার মাস প্রতি রাতে ইবাদত করতেন সেই সাওয়াব দেয়া হবে।

আরো একটু বুজিয়ে বলছি, ১ হাজার মাস = ৩০ হাজার দিন। তাহলে আপনি যদি শবে কদরের রাতে ২০ রাকাত নামাজ পড়েন, ১ পারা কোরআন শরীফ পরেন। তাহলে আপনি সেই ২০ রাকাত নামাজ ও ১ পারা কোরআন শরীফ যদি ৩০ হাজার টা রাতে পরেন তাহলে যেই সাওয়াব পাবেন সেই সাওয়াব আপনার আমলনামায় লেখা হবে। সুবহানআল্লাহ বলবেন না?

আল্লাহ অবশ্যই এর চেয়ে আরো বেশি সাওয়াব দিবেন। কারন হচ্ছে রমজান মাসে কিন্তু ১ রাকাত নামাজ পড়লে ৭০ থেকে ৭০০ রাকাত নামাজের সাওয়াব পাওয়া যায়। মানে যাই ইবাদত করবেন ৭০ থেকে ৭০০ বা তার ও বেশি আল্লাহ ইচ্ছা করলে দিতে পারেন।

তাহলে ৩০ হাজার দিন কে আবার ৭০ থেকে ৭০০ দিয়ে গুন করতে হবে। এক কথায় বলতে গেলে এতো সাওয়াব পাবেন যে হিসাব করতে গেলে অনেক সময় লাগবে।

তাহলে আপনার ইচ্ছা মতো নফল নামাজ পড়ুন, আর বিশেষ করে কোরআন শরীফ পড়ুন কারন কোরআন শরীফ নাযিল করার রাত বলেই তো এতো মর্যাদা আল্লাহ দিয়েছেন শবে কদরের রাতকে।

কোনো বিশেষ নামাজ বা কোনো বিশেষ নিয়ম নেই শবে কদরের নামাজের। তবে আপনি যখন নফল নামাজ পড়বেন তখন যদি সুরা ইখলাস ১ বার না পড়ে ৩ বার / ৫ বার / ৭ বার / ১১ বার / ২১ বার পড়েন তাহলে অনেক সাওয়াব পাবেন।

এছাড়া যদি প্রতি রাকাত নফল নামাজে সুরা ইখলাস কয়েক বার পড়ার সাথে সাথে ১ বার হলে ও আয়াতুল কুরসি পড়েন তাহলে ও অনেক সাওয়াব পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *