৩০০ মৃত্যুদণ্ডের সাক্ষী তিনি !

৩০০ মৃত্যুদণ্ডের সাক্ষী তিনি

এই নারী ৩০০ মৃত্যুদণ্ডের সাক্ষী হয়ে আছেন! কথাটা শুনলেই হয়তো আপনাদে মনে হতে পারে যে তিনিই ৩০০ জনকে মেরেছে। আসলে তিনি কাউকে মারেনি। তবে তার চোখের সামনেই মৃত্যু বরণ করেছেন ৩০০ মানুষ! চলুন তাহলে জেনে নেই এই মার্কিন নারীর ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য আর খুঁজে বের করি তার ৩০০ মৃত্যুদণ্ডের সাক্ষী হয়ে থাকার রহস্য।

৩০০ মৃত্যুদণ্ডের সাক্ষী তিনি !

৩০০ মৃত্যুদণ্ডের সাক্ষী তিনি
৩০০ মৃত্যুদণ্ডের সাক্ষী তিনি

এই মার্কিন নারীর নাম মিচেল লায়ন্স। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট অব ক্রিমিনাল জাস্টিস এর একজন কর্মী হিসেবে কাজ করেছে অনেক বছর। ২০০০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তার চোখের সামনেই ৩০০ মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিলো।

সেই সব আসামিদের মরার শেষ সময়ের কথা বর্ণনা করে মিচেল বলেন, ডেথ চেম্বার বা মরণ কুঠুরিতে নিয়ে আসামিদের হাত পা বেল্ট দিয়ে আটকে শরীরে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেয়া হয়।

ইনজেকশন দেয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে যায় আসামিদের দেহ। এভাবে ৩০০ নারী পুরুষের মৃত্যুদণ্ড নিজের চোখের সামনে থেকে তাকে দেখতে হয়েছে আর এটাই ছিলো তার কাজ!

তিনি সেই সময় গুলোর কথা মনে করে বলেন, ইনজেকশন দেয়ার পর ফুসফুস থেকে শেষ শেষ বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার সময় কেউ সামান্য কাশি দিয়েছিলে, আবার কেউ বা দম আটকে আসার মতো কষ্ট অনুভব করছেন বলে মনে হয়েছিলো তার।

টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট অব ক্রিমিনাল জাস্টিস এর মুখপাত্র হিসেবে এইসব মৃত্যুদণ্ড সামনে দেখে দেখাই ছিলো তার কাজ।

১৭ বছর বয়সী এক আসামির মৃত্যুদণ্ড সামনে থেকে দেখার পরে তিনি অনেক কেঁদেছিলেন এই ভেবে যে ছেলেটা যদি বেঁচে থাকতো তাহলে হয়তো সমাজের অনেক কাজে আসতো।

কিন্তু এর পাশাপাশি তিনি এটাও ভেবেছিলেন যে এই ১৭ বছর বয়সের ছেলেটা যাকে খুন করেছিলো সেই নিহতের পরিবার হয়তো শান্তি পাবে যে তাদের আপনজনের খুনি দুনিয়ার সবচেয়ে বড় শাস্তি পেয়েছে। আর মিচেল লায়ন্স নিজে ও যদি সেই নিহতের পরিবারের একজন হতেন তাহলে তিনিও এটাই চাইতেন।

তবুও, একজন মানুষ হিসেবে জীবন্ত সুস্থ একটা মানুষকে চোখের সামনে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হচ্ছে আর সেটা দেখা যদি হয় কারো কাজ, তাহলে দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন কাজের মধ্যে একটি সেই কাজ।

এখন ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে ও ১৯২৪ সাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত ইলেকট্রিক চেয়ারে বসিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতো। সেটি ছিলো আরো ভয়াবহ।

তবে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডকে ১৯৭২ সালে নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশে। কিন্তু একপর্যায়ে নিষিদ্ধ হবার ২ বছরের মধ্যেই মৃত্যুদণ্ডের বিধান ফিরিয়ে আনা হয় টেক্সাসে।

২০১৩ সালে করা এক জরিপ থেকে জানা গেছে যে টেক্সাসের ৭৪ ভাগ মানুষ মৃত্যুদণ্ডের বিধানকে সমর্থন করে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে অন্য সব অঙ্গরাজ্যের চেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানা গেছে। ২০০০ সালেই সেখানে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি পেয়েছিলেন ৪০ জন।

অবশ্যই মানুষ অন্যায় করলে তাকে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু এখন দেখা যায় যে শাস্তি শুধু গরিব আর অসহায় লোকেরাই পায়। অনেক বড় বড় ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেও ছাড়া পেয়ে যায় অনেক অপরাধী, কারন তাদের ক্ষমতা আছে, তাই।

যদি এমন হতো যে শাস্তির মাধ্যমে অপরাধীর মন থেকে অপরাধ করার ইচ্ছা টা দূর করা যেতো, তাহলে কেমন হতো? কারন আমাদের উচিত অপরাধকে ঘৃণা করা, অপরাধীকে নয়।

আমাদের Bangla News Paper ওয়েবসাইট টি প্রতিদিন ভিজিট করলে পাবেন এমন সব খবর সবার আগে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *